ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ

ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (NOC) বাতিলের পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে আমদানি বন্ধ রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। তবে হঠাৎ করে ইলিশ আমদানি বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের আশঙ্কা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ানোর মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়েছিল। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে তারা জানান। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে আমদানি করা ইলিশ বাজারে পদ্মার ইলিশ হিসেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।
সাধারণ ক্রেতা রহিম বলেন, ভারতীয় ইলিশ দেখতে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় অনেক সময় ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিক মিল থাকায় কেউ কেউ ভারতীয় ইলিশকে দেশি ইলিশ ভেবে কিনছেন।
সম্প্রতি বাজার তদারকির সময় চড়া দামে ভারতীয় ইলিশ বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বেড়ে গেলে দেশীয় ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া কম মূল্য দেখিয়ে ইলিশ আমদানির মাধ্যমে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’-এর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তাদের কেউ কেউ মনে করছেন।
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতে কেনা ইলিশ এখন কম দামে ফেরত দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে আমদানি খরচের লোকসানও রয়েছে বলে জানান তিনি।
বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় বেনাপোলের বাজারেও ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরে এ স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ এসেছে। ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।