গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমাতে পারে যে ৫ অভ্যাস

মা হতে চাচ্ছেন এমন নারীদের অনেকেই পিরিয়ডের তারিখ, সম্ভাব্য ডিম্বস্ফোটনের সময়, খাবার ও জীবনযাপনের দিকে বাড়তি নজর দেন। তবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাসও ফার্টিলিটি বা প্রজনন সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে, যেগুলো অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।
অবশ্য একটি দিন রাত জাগা, একবার অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বা সাময়িক মানসিক চাপের কারণে গর্ভধারণে বাধা তৈরি হয়—বিষয়টি এমন নয়। ফার্টিলিটি বয়স, ডিম্বস্ফোটন, শুক্রাণুর স্বাস্থ্য, শারীরিক অসুস্থতা ও প্রজননস্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
১. শুধু একটি দিন সহবাস করা
ডিম্বস্ফোটনের একটি নির্দিষ্ট দিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা অনেকের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ শুক্রাণু নারীর প্রজননতন্ত্রে কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। অন্যদিকে ডিম্বস্ফোটনের পর ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার উপযোগী সময় তুলনামূলকভাবে কম।
তাই সম্ভাব্য উর্বর সময়ে নিয়মিত সহবাস করলে ডিম্বস্ফোটনের সময় শুক্রাণু উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
মাসিক চক্র অনিয়মিত হলে শুধু ক্যালেন্ডার দেখে ডিম্বস্ফোটনের সময় নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন পূর্বাভাস কিট, জরায়ুমুখের শ্লেষ্মার পরিবর্তনসহ অন্যান্য পদ্ধতি থেকে অতিরিক্ত ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
২. ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান
ধূমপান নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি ডিম্বাশয় ও প্রজননতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ধূমপান শুক্রাণুর গুণমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
গর্ভধারণের চেষ্টা করলে নিজের ধূমপান বন্ধ করার পাশাপাশি সঙ্গীর ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
৩. অতিরিক্ত মদ্যপান
নিয়মিত বা অতিরিক্ত মদ্যপান প্রজনন সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি গর্ভধারণের পর অ্যালকোহল গ্রহণ ভ্রূণের বিকাশে ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে মদ্যপান এড়িয়ে চলা নিরাপদ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। গর্ভধারণের সম্ভাবনা তৈরি হলে অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
গর্ভধারণের পরিকল্পনার সময় ঘুমের বিষয়টি অনেকেরই নজর এড়িয়ে যায়। নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং কিছু গবেষণায় ঘুমের সমস্যার সঙ্গে নারীদের বন্ধ্যাত্বের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গর্ভধারণের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট কোনো ঘুমের সময় নেই। তবে প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের রাত জাগার অভ্যাস থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
৫. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
মানসিক চাপকে অনেক সময় বন্ধ্যাত্বের কারণ হিসেবে সরাসরি দায়ী করা হয়। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঘুম, ক্ষুধা, সম্পর্ক ও যৌন ইচ্ছার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ডিম্বস্ফোটনের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় মানসিক চাপ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে নিজের যত্নে মনোযোগ দেওয়া ভালো। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, বাইরে কিছু সময় কাটানো এবং কাছের বা বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।
সবশেষে, গর্ভধারণে সমস্যা হলে শুধু জীবনযাপনের কোনো একটি অভ্যাসকে দায়ী না করে নারী ও পুরুষ উভয়ের স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।