গাজায় গণহত্যা নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাতাদের পাশে দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা

গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র **‘নাজা’**-র নির্মাতাদের সমর্থনে পিটিশনে সই করেছেন দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা। ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানা গেছে।
সমর্থনকারী নির্মাতাদের মধ্যে অরি ফোলম্যান ও শ্লোমি এলকাবেটজের মতো প্রখ্যাত পরিচালকও রয়েছেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, **‘শিল্প ও সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো সমাজকে আয়না দেখানো।’**
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে ‘নাজা’ স্পেশাল জুরি প্রাইজ পাওয়ার পর এর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোর সমালোচনা ও হুমকির মুখে পড়েন। তাদের প্রতি সংহতি জানাতেই ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই পিটিশনে একজোট হয়েছেন।
তবে ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর নির্মাতাদের এই উদ্যোগকে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তাদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
যদিও ইসরাইলি আইনে সংস্কৃতিমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে কারও নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ নেই। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তথ্যচিত্রে যা তুলে ধরা হয়েছে
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও ‘জেডব্লিউ ফিল্মস’-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি ২৪ জন বেনামি ইসরাইলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি। এতে গাজায় নজরদারি, হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং হামলা পরিচালনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যচিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানোর মতো অভিযোগও উঠে এসেছে। নির্মাতাদের দাবি, এসব ঘটনা কোনো একক সেনার বিচ্ছিন্ন ভুল নয়; বরং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক নীতির ফল।
তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী তথ্যচিত্রে তুলে ধরা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বেনামি সূত্রের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি হামলার সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেয় না, বরং সামরিক নিয়ম মেনে মানুষই এসব সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
উল্লেখ্য, ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জো এর আগে ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের সঙ্গে মিলে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ নির্মাণ করেছিলেন।