মূলধন বাড়াতে ৩০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে ঢাকা ব্যাংক

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ঢাকা ব্যাংক পিএলসি মূলধন ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে ৩০০ কোটি টাকার কনটিনজেন্ট-কনভার্টিবল পারপেচুয়াল বন্ড (সিসিপিবি) ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসেল-৩-এর মূলধন সংক্রান্ত শর্ত পূরণে এই বন্ড ছাড়বে ব্যাংকটি।
রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছে ঢাকা ব্যাংক।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য সিসিপিবি ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকের মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তবে বন্ড ইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।
ছয় মাসে ইপিএস কমেছে ১৩ শতাংশ
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ঢাকা ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমেছে। ব্যাংকের প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, এ সময়ে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৯৫ পয়সা।
গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস কমেছে ১৪ পয়সা বা প্রায় ১৩ শতাংশ।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় ইতিবাচক পরিবর্তন
তবে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩৮ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এই ইপিএস ছিল ২৯ পয়সা।
সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইপিএস বেড়েছে ৯ পয়সা বা প্রায় ৩১ শতাংশ।
গত ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৪৬ পয়সা।
ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার ও মূলধন
ঢাকা ব্যাংক ২০০০ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৫৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানার হিসাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৫৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ শেয়ার।
৩০০ কোটি টাকার সিসিপিবি ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটির মূলধন কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসেল-৩-এর মূলধন পর্যাপ্ততার শর্ত পূরণেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।