নতুন ঋণের আগে পাঁচ সংস্কারে জোর আইএমএফের

ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচির চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় হতে পারে।
অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে আলোচনা এখন অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। তবে এবারের আলোচনায় ঋণের অঙ্কের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক সংস্কার।
ঢাকায় পাঁচ দিনের সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সরকারও জানিয়েছে, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার ও বাস্তবতা বিবেচনায় সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ঋণ কর্মসূচি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতেই নয়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে আইএমএফ বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
সংস্থাটি চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে, যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। আইএমএফের মতে, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে জাতীয় স্বার্থ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করবে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের সফরের পর আগামী কয়েক মাসে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক চলবে। অক্টোবরে ওয়াশিংটনে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর নভেম্বরে আইএমএফের আরেকটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করতে পারে।
সবকিছু অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বরেই নতুন ঋণ কর্মসূচির চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ পাওয়া বড় বিষয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল নির্ভর করবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কারের বাস্তবায়নের ওপর। শুধু ঋণ নয়, টেকসই সংস্কারই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করবে।