ফাইনালে কৌশলের যুদ্ধ, মুখোমুখি গুরু লুইস ও শিষ্য স্কালোনি

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। তবে দুই দলের তারকা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বেঞ্চের এক ভিন্ন গল্প—স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এবার মুখোমুখি হচ্ছেন একসময়কার শিক্ষক ও তার ছাত্র। তাই ফাইনালকে ঘিরে কৌশলগত লড়াইয়ের পাশাপাশি আবেগের এক বিশেষ মাত্রাও যোগ হয়েছে।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সকে পরাজিত করে স্পেন ফাইনাল নিশ্চিত করার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও এই সম্পর্ককে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্য, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লড়াইয়ের পাশাপাশি এটি হবে সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরও মুখোমুখি হওয়ার গল্প।
সেমিফাইনালে জয়ের পর লুইস দে লা ফুয়েন্তে প্রকাশ্যে বলেন, তিনি ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে চেয়েছিলেন। কারণ প্রতিপক্ষের ডাগআউটে থাকবেন তারই সাবেক ছাত্র লিওনেল স্কালোনি।
দে লা ফুয়েন্তে বরাবরই স্কালোনির প্রশংসা করে এসেছেন। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতানোর কৃতিত্বের জন্য তিনি স্কালোনিকে ‘মায়েস্ত্রো’ বলেও অভিহিত করেছিলেন।
অন্যদিকে স্কালোনিও তার কোচিং জীবনের শুরুর দিকের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে দে লা ফুয়েন্তের নাম উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ কোপা আমেরিকার সময় তিনি বলেছিলেন, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচিং কোর্সে দে লা ফুয়েন্তে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সেই সময়ের জন্য তিনি সবসময় কৃতজ্ঞ।
দুই কোচের পরিচয়ের সূচনা ২০১৭ সালে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে স্কালোনি স্পেনের লা রোজাস কোচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিতে যান। সে সময় স্পেনের যুব দলের দায়িত্বে ছিলেন দে লা ফুয়েন্তে এবং কোচিং কোর্সে তিনি স্কালোনির প্রশিক্ষক ছিলেন।
স্পেনের সঙ্গে স্কালোনির সম্পর্ক শুধু কোচিংয়েই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ সময় তিনি স্প্যানিশ ক্লাব দেপোর্তিভো লা করুনা, রেসিং সান্তান্দের ও মায়োর্কার হয়ে খেলেছেন। এছাড়া তার স্ত্রী এলিসা মোন্তেরো স্পেনের নাগরিক এবং তাদের সন্তানদের জন্মও স্পেনে। বর্তমানে পরিবারসহ মায়োর্কাতেই বসবাস করেন আর্জেন্টিনা কোচ।
একসময় স্কালোনি নিজেই বলেছিলেন, পারিবারিক কারণে স্পেনের প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা রয়েছে। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো জায়গা নেই। দেশের স্বার্থে দুজনই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবেন।
এখন অপেক্ষা কেবল একটি প্রশ্নের—বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষ হাসি হাসবেন অভিজ্ঞ গুরু, নাকি ইতিহাস গড়বেন তারই সফল শিষ্য লিওনেল স্কালোনি?