হৃদস্বাস্থ্যের নীরব শত্রু একাকিত্ব!

বয়স বাড়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তবে শুধু বয়স, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসই নয়, একাকিত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক গবেষণায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন একা থাকা মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
গবেষণা কী বলছে?
Social Science & Medicine জার্নালে ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্বের সঙ্গে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের মতে, একাকিত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এক নয়, তবে উভয়ই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
আরও কয়েকটি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন একা থাকা বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
কীভাবে প্রভাব ফেলে হৃদযন্ত্রে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকিত্ব দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ তৈরি করে। এর ফলে শরীরের 'ফাইট অর ফ্লাইট' (Fight or Flight) প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়ে যায়। এতে—
- রক্তচাপ বেড়ে যায়
- রক্তনালীর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়
- শরীরে প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি পায়
- দীর্ঘমেয়াদে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
Scientific Reports-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ একাকিত্বে ভোগেন। আর ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি চারজনের একজন সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে জীবন কাটান। বয়সজনিত কারণে সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ।
একাকিত্বের লক্ষণ কী?
একাকিত্ব শুধু একা থাকা নয়; এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে মানুষ নিজেকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন। এর কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো—
- সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে চলা
- নিজের যত্নে অনীহা
- অনিয়মিত খাবার ও জীবনযাপন
- আগের শখ বা অভ্যাসে অতিরিক্ত ডুবে থাকা
- অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা
- মনোযোগ কমে যাওয়া
- স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
- সবসময় শূন্যতা বা নিঃসঙ্গতা অনুভব করা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামই নয়, পরিবার, বন্ধু ও সমাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন একাকিত্ব অনুভব করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও উপকারী হতে পারে।