বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে কাভা ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ সরকারি চাকরিতে নারীদের কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিং মল ধস, আহত অর্ধশত; প্রত্যাহার সুনামি সতর্কতা পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়ে অর্থ দাবি, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিএসইসিতে চার বছরের জন্য নতুন কমিশনার হোসেন সাদাত সৌরবিদ্যুতের প্রসারের আড়ালে বাড়ছে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, তবু এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত ইসি: সিইসি
  • গরম পানিতে লেবু: স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, নাকি অতিরঞ্জিত প্রচারণা?

    গরম পানিতে লেবু: স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, নাকি অতিরঞ্জিত প্রচারণা?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    অনেকেই দিনের শুরু করেন এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শে এই পানীয়কে ওজন কমানো, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ‘অলৌকিক’ উপায় হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, এসব দাবির বেশিরভাগেরই শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    গরম পানিতে লেবু খাওয়ার প্রকৃত উপকারিতা

    লেবুতে কিছু পরিমাণ ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী। অন্যদিকে, সকালে পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে পান করলে সতেজ অনুভূতি আসতে পারে এবং শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে।

    তবে এই পানীয় একাই ওজন কমায়, বিপাকক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় বা শরীরকে ‘ডিটক্স’ করে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম।

    প্রচলিত ধারণা বনাম বাস্তবতা

    অনেকের বিশ্বাস, লেবুর পানি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় বা রক্তকে ক্ষারীয় (অ্যালকালাইন) করে তোলে। বাস্তবে শরীরের লিভার ও কিডনি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিকর বর্জ্য অপসারণের কাজ করে এবং শরীরের pH মাত্রা নিজস্ব প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রিত থাকে। তাই লেবুর পানি এই কাজগুলো আলাদাভাবে করে—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

    কারা সতর্ক থাকবেন?

    যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার বা সংবেদনশীল দাঁতের সমস্যা রয়েছে, তাদের লেবুর পানি পান করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। লেবুর অম্লতা কিছু ক্ষেত্রে অস্বস্তি বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘদিন ঘন ঘন পান করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই লেবুর পানি পান করার পর সাধারণ পানি দিয়ে মুখ কুলি করা ভালো অভ্যাস।

    শেষ কথা

    গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে পান করা একটি স্বাস্থ্যকর ও সতেজকর অভ্যাস হতে পারে, তবে এটিকে কোনো ‘জাদুকরী’ পানীয় মনে করার কারণ নেই। সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। লেবুর পানি সেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি ছোট অংশ হতে পারে, কিন্তু পুরো সমাধান নয়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ