হিজরি ১২ মাসের নামের ইতিহাস ও অর্থ

হিজরি সন বা ইসলামি বর্ষপঞ্জির ১২ মাসের নামের পেছনে আরবদের প্রাচীন জীবনযাত্রা, আবহাওয়া ও সামাজিক প্রথার গভীর ইতিহাস রয়েছে। চান্দ্রভিত্তিক এই ক্যালেন্ডার শত শত বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকলেও এর প্রতিটি মাসের নামের সঙ্গে যুক্ত আছে আলাদা অর্থ ও প্রেক্ষাপট।
মুহাররম মাসকে যুদ্ধনিষিদ্ধ ও পবিত্র মাস হিসেবে গণ্য করা হতো, তাই এর নাম রাখা হয়েছে মুহাররম। সফর শব্দের অর্থ শূন্য বা খালি, কারণ যুদ্ধের সময় আরবদের বসতি অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়ত।
রবিউল আউয়াল ও রবিউস সানি মূলত বসন্ত ঋতুর সঙ্গে সম্পর্কিত নাম, যেখানে প্রথমটিকে বসন্তের শুরু এবং দ্বিতীয়টিকে বসন্তের পরবর্তী সময় হিসেবে ধরা হয়। জমাদিউল আউয়াল ও জমাদিউস সানি শীতকালীন সময়কে নির্দেশ করে, যখন প্রচণ্ড শীতে পানি জমে যেত।
রজব মাস ছিল যুদ্ধবিরতির পবিত্র সময়, আর শাবান মাসে আরবরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে জীবিকা বা যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ছড়িয়ে পড়ত—এ ধারণা থেকেই নামের উৎপত্তি।
রমজান শব্দের অর্থ প্রচণ্ড গরম বা উত্তাপ, কারণ এটি ছিল গ্রীষ্মকালীন সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই মাসেই মুসলমানদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়।
শাওয়াল মাসে উটের দুধ কমে যাওয়ার কারণে এর নামকরণ হয়, আর জিলকদ মাসে আরবরা যুদ্ধ থেকে বিরত থেকে ঘরে অবস্থান করত। জিলহজ মাস হজ পালনের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস হিসেবে বিবেচিত।
হিজরি সন শুধু সময় গণনার পদ্ধতি নয়, বরং ইসলামি শরিয়তের বহু বিধান যেমন রোজা, হজ, জাকাত এবং ইদ্দতের হিসাব নির্ধারণের মূল ভিত্তি। তাই ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে হিজরি ক্যালেন্ডারের গুরুত্ব অপরিসীম।