কৃষিখাত হবে উন্নয়নের প্রধান চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রান্তিক কৃষকদের শুধু উৎপাদক নয়, বরং ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তার মতে, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক কৃষি ব্যবস্থা জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি হয়ে উঠবে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
সংসদে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কৃষি উন্নয়ন বিষয়ে প্রশ্ন করলে তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটি আত্মনির্ভর ও জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে তথ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলছে এবং এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
সরকার কৃষি খাতে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা, সার ও বীজ সরবরাহ, সেচ সুবিধা এবং ভর্তুকি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ এবং দেশব্যাপী কৃষকবাজার স্থাপনের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), IoT, সেন্সর ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এ কারণে সরকার পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ ও উপকূলীয় সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জলবায়ু ট্রাস্টের মাধ্যমে গবেষণা ও অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষি ও পরিবেশ—এই দুই খাতই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি।”