বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে!

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন লিওনেল মেসি, যিনি হ্যাটট্রিক করে একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন।
মাত্র এক সপ্তাহ পর ৩৯ বছর পূর্ণ করতে যাওয়া মেসি তার ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। গোল করেন ১৭, ৬০ এবং ৭৬ মিনিটে। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের বিশ্বকাপ রেকর্ডের সমান অবস্থানে পৌঁছে যান।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ছিল। সপ্তম মিনিটে মেসির একটি শট অফসাইডে বাতিল হলেও ১৭তম মিনিটে তিনি দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে দলকে এগিয়ে নেন। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার বাঁ-পায়ের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান কোনোভাবেই ঠেকাতে পারেননি।
প্রথমার্ধে সেই এক গোলেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করে তারা। ৬০তম মিনিটে রিবাউন্ড বল থেকে সহজ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি।
এরপর ৭৬তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি, যা ছিল ম্যাচের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন গোলগুলোর একটি।
মেসির পাশাপাশি আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে দারুণ সংগঠিত ফুটবল উপহার দেয়। মাত্র ৪৫ শতাংশ বল দখলে রেখেও তারা ছয়টি শট অন টার্গেটে রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে আলজেরিয়া একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলও ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখে। ৪-৩-৩ ফর্মেশন থেকে মাঝেমধ্যে ৪-৪-২ এ নেমে গিয়ে দলটি প্রতিপক্ষকে কার্যত নিস্তেজ করে দেয়। রদ্রিগো ডি পল, ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজের মিডফিল্ড ত্রিভুজ আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই ভারসাম্য ধরে রাখে।
তবে দলের বড় শক্তি যেমন মেসি-নির্ভরতা, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য কিছু উদ্বেগও রয়েছে। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ৩৮ বছর বয়সী মেসির ফিটনেস এবং স্কোয়াড ডেপথ নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
তবুও আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সাফল্য—২০২২ বিশ্বকাপ ও পরবর্তী কোপা আমেরিকার ধারাবাহিক জয়—তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্ত করেছে। এই জয় তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শক্ত বার্তা দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে এখন অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ বাকি রয়েছে আর্জেন্টিনার। শক্ত অবস্থানে থাকায় শেষ ৩২ ও ১৬ পর্ব পার করাই হবে মূল লক্ষ্য, যেখানে অপেক্ষা করছে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল বা স্পেনের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ।
মেসির এই অবিশ্বাস্য শুরু বিশ্বজুড়ে আবারও আর্জেন্টিনাকে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।