বাজেটকে ‘জনবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এতে কর ও ঋণের বোঝা আরও বাড়বে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াত। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। তার ভাষ্য, বাজেটটি মূলত কর ও ঋণনির্ভর হওয়ায় এর চাপ সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর পড়বে।
তিনি অভিযোগ করেন, বাজেটের বড় অংশ পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হবে, ফলে জনগণের প্রত্যক্ষ কল্যাণে এর প্রভাব সীমিত থাকবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পরোক্ষ কর বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়াতে পারে।
বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, বাজেটের আকার বড় হলেও এটি জনবান্ধব নয়। তার দাবি, এ বাজেটের সুবিধা মূলত প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কারমুখী বাজেট উপস্থাপন করা হয়নি। ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজেটের বিভিন্ন দিক পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।