বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
বাজেট ২০২৬-২৭

এআই উন্নয়নে ৫০০ কোটি, তামাকপণ্যে কর বাড়ানোর প্রস্তাব

এআই উন্নয়নে ৫০০ কোটি, তামাকপণ্যে কর বাড়ানোর প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন তিনি। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তামাকজাত পণ্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি

নতুন বাজেটে সিগারেটসহ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্যের ওপর কর, শুল্ক ও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সব স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটে নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ এবং হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্য বাড়তে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ৫০০ কোটি টাকা

অর্থমন্ত্রী জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিক্স শিল্প এবং তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা, নাগরিক সেবাকে আরও জনবান্ধব করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অর্থ স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ব্যবহার করা হবে।

রাজস্ব আয় ও বাজেট ঘাটতির চিত্র

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা।

মোট বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

উন্নয়ন ব্যয়ে গুরুত্ব

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা।

অন্যদিকে পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়িয়ে মোট বাজেটের ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ।

সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অগ্রাধিকার

বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে—

সামাজিক অবকাঠামো খাতে: ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা
ভৌত অবকাঠামো খাতে: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা
সাধারণ সেবা খাতে: ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা
ঋণ ও সুদ পরিশোধে বড় ব্যয়

প্রস্তাবিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতের ঋণ গ্রহণের ফলে সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং উচ্চ রিটার্নসম্পন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ