সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়াতে রূপরেখা ঘোষণা জামায়াতের

জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের আগেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এ বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
ছায়া বাজেটে জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংস্কার, কর প্রশাসন, শিক্ষা, প্রযুক্তি খাত এবং ঋণের সুদ পরিশোধ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংস্কারের একটি বিস্তারিত প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছে দলটি।
জামায়াতের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান বেতন-ভাতা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দেশের আর্থিক সক্ষমতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনস্কেলের ১০০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর অন্তত ৮০ শতাংশ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
ছায়া বাজেটের রূপরেখা অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য আগামী ১ জুলাই থেকেই পূর্ণ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর করা এবং পরবর্তী বছরে বর্ধিত ভাতা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধি কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া টিফিন, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতার বর্তমান হার পুনর্মূল্যায়ন করে যুগোপযোগী করার সুপারিশও করা হয়েছে।
এদিকে সরকারও আসন্ন বাজেটে নতুন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেতন বৈষম্য কমিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮-এ নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।