স্পিডবোট চলাচলে নতুন ভাড়া ঘোষণা সরকারের

দেশের স্পিডবোটে যাত্রী পরিবহনের ভাড়া নতুন করে নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত গেজেটে জানানো হয়, নতুন ভাড়ার হার ১১ মে থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
সরকার জানিয়েছে, যাত্রীসেবা ও নৌপথের ঝুঁকি বিবেচনায় শান্ত এবং অশান্ত—দুই ধরনের নৌরুটের জন্য আলাদা ভাড়ার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শান্ত নৌরুটে প্রথম ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ১৫ টাকা। পরবর্তী ১০ কিলোমিটারে প্রতি কিলোমিটারে গুনতে হবে ১০ টাকা ৮০ পয়সা এবং এর বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা ৬৪ পয়সা।
অশান্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ নৌরুটে ভাড়া তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। এসব রুটে প্রথম ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ১৭ টাকা এবং পরবর্তী ১০ কিলোমিটারে ১৫ টাকা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আরিচা ঘাট-কাজীরহাট রুটে ভাড়া ২৩৫ টাকা, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ১৩০ টাকা এবং বরিশাল-ভেদুরিয়া রুটে ৩২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া লাহারহাট-ভেদুরিয়া রুটে ১৬০ টাকা, ভৈরব বাজার-নবীনগর রুটে ২৭০ টাকা, নরসিংদী-সলিমগঞ্জ রুটে ২৩৫ টাকা এবং গলাচিপা-রাঙ্গাবালী রুটে ৩৮০ টাকা ভাড়া ঠিক করা হয়েছে।
রাঙামাটির দুর্গম নৌপথগুলোর মধ্যেও নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। ফিশারি ঘাট থেকে মারিশ্যা রুটে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬০ টাকা, মাইনি রুটে ৪৮৫ টাকা এবং বরকল রুটে ৩৫৫ টাকা।
উপকূলীয় ও অশান্ত নৌপথের জন্যও নতুন ভাড়ার তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে ২৬০ টাকা, কক্সবাজার ৬ নম্বর ঘাট-মহেশখালী রুটে ৯৫ টাকা এবং বয়ার চর (চেয়ারম্যানঘাট)-নলছিরা (হাতিয়া) রুটে ৩২৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের আশা, নতুন এই ভাড়ানীতি চালুর ফলে দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কমবে এবং যাত্রীরা স্বস্তি পাবেন।