সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

ইসলামি দৃষ্টিতে স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি

ইসলামি দৃষ্টিতে স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় দাম্পত্য সম্পর্ক কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি পবিত্র আমানত। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা (মুহব্বত) ও দয়া (রহমত)। তবে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামীর কঠোর আচরণ বা অবহেলায় স্ত্রীর মানসিক প্রশান্তি বিঘ্নিত হয়। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্ত্রীর মনে অকারণে কষ্ট দেওয়া কেবল চারিত্রিক দুর্বলতা নয়, বরং পরকালে কঠিন জবাবদিহিতার কারণ।

দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর অধিকার ও তাঁর প্রতি আচরণের ভয়াবহতা নিয়ে ইসলামের দিকনির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • স্ত্রী আল্লাহর আমানত: ইসলামে স্ত্রীকে স্বামীর অধীনস্থ কোনো বস্তু নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া ‘আমানত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই আমানতের অবমাননা করা বা তাঁর হৃদয় ভাঙা মূলত আল্লাহর দেওয়া দায়িত্বের খেলাপ।

  • ঈমানের মাপকাঠি স্ত্রীর সাথে আচরণ: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।" অর্থাৎ একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র ও ঈমানের পবিত্রতা প্রতিফলিত হয় তার স্ত্রীর প্রতি আচরণের মাধ্যমে।

  • মজলুমের দোয়া ও আল্লাহর আদালত: স্বামী কর্তৃক নির্যাতিতা বা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত স্ত্রীর দীর্ঘশ্বাস সরাসরি আল্লাহর আরশে পৌঁছে যায়। ইসলামে মজলুমের দোয়ার মাঝে কোনো পর্দা থাকে না, আর স্ত্রীর ওপর জুলুম করাও এই নীতির অন্তর্ভুক্ত।

  • হক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক: কিয়ামতের ময়দানে কেবল নামাজ-রোজার হিসাব হবে না; বরং মানুষের অধিকার বা হক্কুল ইবাদ নষ্ট করার হিসাবও দিতে হবে। স্বামী যদি স্ত্রীর মনে অকারণে কষ্ট দেয়, তবে সেই স্ত্রী ক্ষমা না করা পর্যন্ত মহান আল্লাহও তা ক্ষমা করবেন না।

  • সংসার থেকে বরকত উঠে যাওয়া: যে ঘরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও সম্মানের অভাব থাকে এবং অপমান নিত্যদিনের সঙ্গী হয়, সেখান থেকে মহান আল্লাহর বরকত ধীরে ধীরে উঠে যায়।

কেবল অন্ন-বস্ত্র নয়, সম্মানও ফরজ দায়িত্ব

অনেকে মনে করেন স্ত্রীকে কেবল অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান দিলেই দায়িত্ব শেষ। কিন্তু ইসলামি বিধান অনুযায়ী, স্ত্রীকে সম্মান দেওয়া, কোমল ভাষায় কথা বলা এবং মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও স্বামীর ফরজ দায়িত্বের অংশ। স্ত্রীর নীরবতাকে অনেক সময় সম্মতির লক্ষণ মনে করা হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা কেবল সংসার টিকিয়ে রাখার ধৈর্য। আর এই ধৈর্যের সুযোগ নিয়ে কষ্ট দেওয়া স্পষ্ট জুলুম।

উপসংহার

একজন সুখী স্ত্রী কেবল একটি সুন্দর সংসারের কারিগর নন, বরং তাঁর মুখে হাসি ফোটানো স্বামীর জন্য সওয়াবের কারণ। ইসলামি স্কলারদের মতে, পৃথিবীর বুকে দেওয়া কোনো আঘাত হয়তো সময়ের সাথে ফিকে হয়ে যায়, কিন্তু আল্লাহর আদালতে প্রতিটি অনুভূতির নিখুঁত বিচার হবে। তাই আজই প্রতিটি স্বামীর নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—তিনি তাঁর স্ত্রীর জন্য রহমত নাকি কষ্টের কারণ?


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন