বিয়েতে কি তিনবার ‘কবুল’ বলা জরুরি? জানুন শরিয়তের সিদ্ধান্ত

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ের মূল ভিত্তি হলো ইজাব (প্রস্তাব) এবং কবুল (গ্রহণ) করা। বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য পাত্রীকে তিনবার ‘কবুল’ বলতে হবে—এমন কোনো শরয়ি বিধান নেই। বর্তমানে কিছু বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষীদের সামনে পাত্রীকে তিনবার ‘কবুল’ বলানোর যে প্রচলন দেখা যায়, তা ইসলামী শরিয়তের অংশ নয়।
বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ
ইসলামী আইন অনুযায়ী একটি বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত পূরণ করা জরুরি:
পারস্পরিক সম্মতি: পাত্র ও পাত্রী উভয়েই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং মুসলমান হতে হবে। তাদের নিজস্ব ইচ্ছায় ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হতে হবে এবং উভয় পক্ষই তা স্পষ্টভাবে শুনতে পারবে।
সাক্ষী উপস্থিতি: বিয়ের সময় অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দায়িত্বশীল সাক্ষী থাকতে হবে, যারা প্রস্তাব ও সম্মতি নিজ কানে শুনবেন।
‘কবুল’ শব্দ কি বাধ্যতামূলক?
অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে, বিয়েতে নির্দিষ্টভাবে ‘কবুল’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। আসলে বিষয়টি এমন নয়। মূল শর্ত হলো স্পষ্ট সম্মতি প্রকাশ করা। যদি কেউ ‘আমি গ্রহণ করলাম’ বা অন্য কোনো স্পষ্ট শব্দে সম্মতি প্রকাশ করেন, তবুও বিয়ে শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ হবে।
তিনবার বলার প্রচলন
বিয়ের সময় পাত্রীকে তিনবার ‘কবুল’ বলানোর যে রীতি কিছু জায়গায় দেখা যায়, তার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। এটি একটি সামাজিক প্রচলন মাত্র। এই রীতির কারণে অনেক সময় পাত্রী অস্বস্তিতে পড়েন এবং শরয়ি পর্দার ক্ষেত্রেও অসুবিধা সৃষ্টি হয়। ইসলামে এ ধরনের বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। একবার স্পষ্টভাবে সম্মতি প্রকাশ করাই যথেষ্ট।