পুতিনের সমর্থন চাইতে রাশিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) রাশিয়া পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মস্কোতে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান চাইলে যুদ্ধের অবসানে সরাসরি টেলিফোনে আলোচনা করতে পারে।
ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাঁর এই সফরকে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং অবস্থান সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও ওমান সফর শেষ করেই তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মূলত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা থমকে যাওয়ায় ক্রেমলিনের জোরালো কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন পেতে তেহরানের এই প্রচেষ্টা।
ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "তারা (ইরান) যদি কথা বলতে চায়, তবে আমাদের ফোন করতে পারে। আমাদের চমৎকার ও সুরক্ষিত লাইন আছে।" তবে আলোচনার ক্ষেত্রে ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "চুক্তিতে কী থাকতে হবে তা তারা জানে। বিষয়টি পরিষ্কার: তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না; অন্যথায় বৈঠকের কোনো কারণ নেই।"
রাশিয়া যাওয়ার আগে আরাঘচি ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠক করেন। তিনি জানান, পাকিস্তান মধ্যস্থতায় জড়িত থাকলেও ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবির’ কারণে আলোচনা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এরপর ওমান সফরকালে তিনি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং মার্কিন স্টক ফিউচারের দরপতন ঘটেছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসলেও পশ্চিমা শক্তিগুলো বিষয়টিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখে আসছে। এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।