সৌন্দর্য নয়, বুদ্ধিতেই প্রেম; সম্পর্কের নতুন ট্রেন্ড ‘স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি’

মানুষ সাধারণত অন্যের চেহারা, কথা বলার স্টাইল বা ব্যক্তিত্ব দেখে আকৃষ্ট হয়। কিন্তু একদল মানুষ আছেন যাদের কাছে প্রেমের সংজ্ঞাই আলাদা। তাদের কাছে কোনো ব্যক্তির তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, অগাধ জ্ঞান কিংবা যুক্তিনির্ভর আলাপই হলো প্রধান আকর্ষণ। এই বিশেষ মানসিকতাকে বলা হয় ‘স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি’। সহজ কথায়, যারা বিপরীত লিঙ্গের বুদ্ধিমত্তাকে সবচেয়ে বড় যৌন বা মানসিক আকর্ষণ হিসেবে দেখেন, তারাই হলেন ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’।
শব্দটির উৎপত্তি ও বিস্তার
‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘Sapio’ থেকে, যার অর্থ জ্ঞান বা প্রজ্ঞা। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে ডেটিং অ্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলোতে এই শব্দটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই নিজেদের প্রোফাইলে বুক ফুলিয়ে লিখছেন— "I am a Sapiosexual"। অর্থাৎ, দামী উপহার বা বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়েও তাদের কাছে লাইব্রেরিতে বসে বই নিয়ে আলোচনা করা বা গভীর কোনো তত্ত্বে কথা বলা বেশি রোমাঞ্চকর।
স্যাপিওসেক্সুয়ালদের সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য:
১. গভীর আলাপন: তারা সাধারণ হাই-হ্যালো বা ছোটখাটো আলাপ (Small talk) পছন্দ করেন না। রাজনীতি, বিজ্ঞান, সাহিত্য বা দর্শন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে পারা মানুষকে তারা সঙ্গী হিসেবে প্রাধান্য দেন।
২. যুক্তিবোধের কদর: তর্কের খাতিরে তর্ক নয়, বরং যারা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তি দিতে পারেন, তাদের প্রতি এরা দ্রুত আকৃষ্ট হন।
৩. বই ও জ্ঞানের প্রতি ঝোঁক: সঙ্গী কতটুকু জানেন বা কতটুকু পড়েন, সেটিই এদের কাছে প্রধান মানদণ্ড।
৪. চমৎকার রসবোধ (Wit): ধারালো রসবোধ এবং শব্দের সঠিক ব্যবহারকে এরা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হিসেবে দেখেন এবং এতে মুগ্ধ হন।
কেন এটি জনপ্রিয় হচ্ছে?
আজকের ডিজিটাল যুগে যখন বাহ্যিক প্রদর্শনীই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন একদল মানুষ মানসিক প্রশান্তি এবং স্থিতিশীলতাকে খুঁজছেন। বুদ্ধিবৃত্তিক সামঞ্জস্যতা বা ‘ইন্টেলেকচুয়াল কম্প্যাটিবিলিটি’ দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি। স্যাপিওসেক্সুয়ালদের ধারণা, চেহারা সময়ের সাথে মলিন হয়ে যায়, কিন্তু চিন্তার গভীরতা কখনো পুরোনো হয় না।