বাংলাদেশ কোচ হতে আগ্রহী ইউরোপের অভিজ্ঞ এই কোচ

আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের আগেই দলের ডাগআউটে দেখা যেতে পারে নতুন প্রধান কোচকে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ইতোমধ্যে দুই বছরের জন্য নতুন কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বর্তমান কোচ হাভিয়ের কাবরেরার চুক্তি চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত থাকলেও তাঁর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বাফুফে। প্রায় চার বছরের দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নতুন কোচ খুঁজতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে জার্মান কোচ অ্যান্টোইন হে-র নাম। উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী এই অভিজ্ঞ কোচ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। মিয়ানমার, রুয়ান্ডা, কেনিয়া, লাইবেরিয়া, গাম্বিয়া ও লেসোথোর মতো দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া বাহরাইন ও লিবিয়ার ফুটবল সংস্থায় টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে অ্যান্টোইন হে জার্মানির বুন্দেসলিগায় শালকে ০৪ ও ফরচুনা ডুসেলডর্ফের মতো ক্লাবে খেলেছেন, যা তাঁর অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বাফুফের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, নতুন কোচকে অবশ্যই এশিয়ার ফুটবল সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের মানসিকতা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এই দিক থেকে অ্যান্টোইন হে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন, কারণ তিনি মিয়ানমার জাতীয় দলের সঙ্গে দুই মেয়াদে কাজ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন।
তবে কোচ নিয়োগে বাজেটও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাবরেরা সর্বশেষ প্রায় ১৪ হাজার ডলার বেতন পেলেও শুরুতে তাঁর বেতন ছিল ৮ হাজার ডলার। নতুন কোচ বাছাইয়ে আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি টেকনিক্যাল দক্ষতাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চায় বাফুফে।
এদিকে শুধু অ্যান্টোইন হে-ই নন, রোমানিয়া, ফ্রান্স ও পর্তুগাল থেকেও বেশ কয়েকজন কোচ আবেদন করেছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত আরেকজন ইউরোপীয় কোচই বাংলাদেশের দায়িত্ব নিচ্ছেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আগামী ৫ জুন ইউরোপের মাটিতে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। নতুন কোচের জন্য এটি হতে পারে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, আবার একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় সূচনাও।