মেঘনার ইলিশ স্বাদে অতুলনীয়: মন্ত্রী এ্যানি

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা নদীর ইলিশের তুলনায় মেঘনা নদীর ইলিশ স্বাদে ও দামে উভয়দিক থেকেই এগিয়ে। তিনি বলেন, “পদ্মার ইলিশে কিছুটা লালচে ভাব থাকে। অনেকেই ঢাকায় গিয়ে পদ্মার ইলিশ খোঁজ করেন, কিন্তু আসল সুস্বাদু ইলিশ হলো মেঘনার। ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জাতীয় মাছ—এটি রক্ষায় সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।”
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন জেলেদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর।
মন্ত্রী আরও জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাটকা ও ইলিশ সংরক্ষণে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে নিবন্ধিত প্রতিটি জেলেকে ৩ হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।
জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সারাবছর মাছ শিকার করেন। এই দুই মাস নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুন। এ সময় বিশ্রাম নিন, জাল বুনুন এবং নৌকা মেরামত করুন। পরবর্তীতে পুরোদমে মাছ শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শাহাবুদ্দিন সাবু। স্বাগত বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রতিমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়,মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম, সংসদ সদস্য (রামগঞ্জ),মেহেদী হাসান, জেলা প্রশাসক। আবু তারেক, পুলিশ সুপার।
অনুষ্ঠানে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং কয়েকশ’ জেলে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মন্ত্রী জেলেদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলেদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।