লক্ষ্মীপুর–রায়পুর–নোয়াখালী সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাস চলাচল

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থেকে নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী বাস সার্ভিসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা অনিয়ম। ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ (লক্করঝক্কর) বাস, অতিরিক্ত গতি এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে মালামাল পরিবহনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আজ (দুপুর ৩টা ১৮ মিনিটে) জকশিন বাজার এলাকায় তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, আনন্দ বাস সার্ভিস-এর একটি বাসের ছাদে বিপুল পরিমাণ মালামাল বোঝাই করা হয়েছে। এমনকি কয়েকজন ব্যক্তি বাসের ছাদে অবস্থান করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মালামাল সামলাচ্ছেন। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,অধিকাংশ বাসই ফিটনেসবিহীন। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করা হচ্ছে নিয়মিত। চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান
সড়কে কোনো কার্যকর তদারকি নেই। একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেক প্রাণহানি হয়েছে। কিন্তু কারো যেন কোনো দায়বদ্ধতা নেই।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলন্ত বাসের ছাদে মালামাল বহন এবং মানুষের অবস্থান করা সরাসরি সড়ক পরিবহন আইনের লঙ্ঘন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—রোড পারমিট ও ফিটনেস সনদ এসব বাস কিভাবে পায় ? কিভাবে চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে এসব সার্ভিস ? আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চললেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না ?
সচেতন মহল দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলছেন—ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। অতিরিক্ত গতি ও ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট জোরদার করতে হবে।
লক্ষ্মীপুর–রায়পুর–নোয়াখালী সড়কে চলাচলকারী বাসগুলোর অনিয়ম শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি যাত্রীদের জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন অভিজ্ঞ মহল।