শেয়ারবাজারে বড় পতন, ডিএসই-সিএসইতে লেনদেনও কমেছে

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বড় পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষ করেছে। উভয় বাজারেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদাম কমেছে, যার ফলে সবগুলো মূল্যসূচকও নিম্নমুখী হয়েছে। পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনের শুরুতে ডিএসইর সূচক সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরবর্তীতে তা নিম্নমুখী হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দরপতনের প্রবণতা অব্যাহত থাকে। দিনশেষে ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৫টির, কমেছে ৩০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৬০ পয়েন্টে এবং ডিএস-৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৯৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের ৭১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৯৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৬৯৬ পয়েন্টে এবং প্রধান মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ৪৪ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৯৭৭.৫১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। দিনশেষে সিএসইতে মোট ১৯১ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে দাম বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ১১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির।
আজ সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৭ লাখ টাকার সিকিউরিটিজে, যা আগের কার্যদিবসের ৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকার তুলনায় ব্যাপক হ্রাস নির্দেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে এই ধরনের পতনের পেছনে বিনিয়োগকারীদের মনোবল কমে যাওয়া, বিদেশি শেয়ার ও ফান্ডে বিনিয়োগের ধীরগতি এবং বিশ্ববাজারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডিএসই-সিএসইতে চলমান দরপতন সাময়িক হলেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে এই সময়ে লম্বা মেয়াদি বিনিয়োগের জন্য পরিকল্পিত কৌশল নেওয়া প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারীরা সতর্ক থাকুন: বাজারে হঠাৎ দরপতন এবং লেনদেনের হ্রাসে লগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই বাজার বিশ্লেষণ, কোম্পানির অর্থনৈতিক ফলাফল এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদরা।