রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

রায়পুরে পান চাষে অর্থনৈতিক বিপ্লব

রায়পুরে পান চাষে অর্থনৈতিক বিপ্লব
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পান চাষ এখন আর শুধু ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ নয়—এটি রূপ নিয়েছে একটি লাভজনক অর্থনৈতিক খাতে।

অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলনের কারণে দিন দিন পান চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। 

চলতি মৌসুমে উৎপাদন ব্যাপক হওয়ায় জেলা কৃষি বিভাগ আশা করছে, শুধু পান থেকেই এ বছর ২০০ কোটি টাকার বেশি আয় হবে।

এক সময় রায়পুর উপজেলার মাত্র দুইটি ইউনিয়নে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে পান চাষ ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে। কৃষকদের অভিজ্ঞতা, আগ্রহ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহারে এই খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

উপজেলার মিতালী বাজার এলাকার পান চাষি বিল্লাল জানান, তাদের এলাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবার কোনো না কোনোভাবে পান চাষের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “এক একর জমির একটি বরজ থেকে সপ্তাহে দুইবার পান তোলা যায়। প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার পান বিক্রি হয়, ফলে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় সম্ভব।” তিনি আরও জানান, একবার বরজ স্থাপন করা হলে তা ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচও তুলনামূলক কম।

রায়পুরের পানের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ভোরে উপজেলার হায়দরগঞ্জ, ক্যাম্পেরহাট ও নতুন বাজারসহ অন্তত চারটি বড় পাইকারি হাটে জমে ওঠে পানের বেচাকেনা। এসব হাট থেকে পাইকাররা ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পান সরবরাহ করেন।

স্থানীয় পান ব্যবসায়ী আলী মিয়া বলেন, “রায়পুরের পান দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়। এখানকার পানের মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। প্রতিদিন হাজার হাজার পান বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।”

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রায়পুরে ৪ হেক্টর জমিতে পান চাষ হলেও চলতি বছর তা বেড়ে ৫ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার ফলে কৃষকরা আগের চেয়ে বেশি ফলন পাচ্ছেন।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পান চাষিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা গেলে এই খাত আরও বিকশিত হবে। আধুনিক প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটানো গেলে রায়পুরের পান শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।

সব মিলিয়ে, রায়পুরে পান চাষ এখন কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। সম্ভাবনাময় এই খাত ঘিরে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ