লক্ষ্মীপুরে সংস্কারহীন খোয়াসাগর দীঘি, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরপুর খোয়াসাগর দীঘি এখন জেলার অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত এ স্থানটি। তবে দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীঘির বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালালবাজার এলাকায় প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এ দীঘিটি অবস্থিত। প্রায় ২২-২৫ একর আয়তনের এই জলাধারটি একসময় বিশুদ্ধ পানির উৎস হিসেবে খনন করা হলেও বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীঘির চারপাশে আংশিক উন্নয়ন কাজ হলেও বেশ কিছু অংশ এখনো অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও ভাঙা ওয়াকওয়ে, কোথাও পাড় ধসে পড়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে দীঘির পাড়ের ওয়াকওয়ের একটি অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা বলা যায়।
দর্শনার্থীদের অভিযোগ, দীঘির অনেক স্থানে পর্যাপ্ত রেলিং নেই কিংবা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে। শিশু ও কিশোরদের জন্য এটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
এছাড়া দীঘির পাশের সড়কটিও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকযুক্ত হওয়ায় যানবাহন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সপ্তাহান্ত ও ছুটির দিনে এখানে উপচে পড়া ভিড় থাকে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী ও নজরদারির অভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন অনেকে। স্থানীয়দের মতে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।
দীঘির পাড় ঘিরে পূর্ণাঙ্গ রেলিং স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াকওয়ে সংস্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে পরিকল্পিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এটিকে একটি নিরাপদ পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসন পূর্বে দীঘির সৌন্দর্যবর্ধনে নানা উদ্যোগ নিলেও বর্তমানে নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ খোয়াসাগর দীঘি এখন অবহেলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এটি শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং দুর্ঘটনার কেন্দ্রেও পরিণত হতে পারে—এমন আশঙ্কা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।