আজ শেষ দিন: সংসদে উত্তাপের সম্ভাবনা সংবিধান সংস্কার নিয়ে

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের ৩০ দিনের সময়সীমা আজ রোববার শেষ হচ্ছে। তবে সভা অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারদলীয় জোট ও বিরোধীদলীয় জোটের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে।
আজকের জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এতে প্রথম দিনের মতো সংসদে উত্তাপ ছড়াতে পারে।
বিএনপি জানিয়েছে, পরিষদের বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেছে, গণভোটের রায় কার্যকর না হলে তারা রাজপথে যেতে বাধ্য হবে। এনসিপি দাবি করেছে, সভা আহ্বান না করে প্রধানমন্ত্রী গণভোটের গণরায় অমান্য করেছেন।
সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদ আহ্বান করা আইনগত প্রয়োজন। তবে আদেশে সভা আহ্বান না করা হলে কী হবে, তা উল্লেখ নেই।
হাইকোর্ট ইতোমধ্যেই পরিষদের ভবিষ্যৎ, গণভোট ও আদেশের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছে। ফলে কেউ কেউ বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে বলেও মনে করছেন।
সাবেক ঐকমত্য কমিশনের একজন সদস্য সমকালকে বলেছেন, সংসদীয় রাজনীতির “দুই-তৃতীয়াংশের অভিশাপ” কার্যকর হচ্ছে। বিএনপি ২০০ আসন না পেলে বিরোধী দলের সহায়তা নিতে হতো, কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তারা নিজ উদ্যোগে পরিষদ গঠন করতে পারে।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের প্রেক্ষাপট
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদে ৪৮টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়। গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটে সনদ অনুমোদিত হয়। ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে এবং নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ১৮০ কার্যদিবস মেয়াদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে।
পরিষদে নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সরকারি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থার বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে রাজি নয়। তবে জামায়াত জোট এই সংস্কারগুলো কার্যকর করতে চায়।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও রাজপথের হুমকি
জামায়াত জোট সরকারের কাছে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। অন্যথায় তারা রাজপথে আন্দোলনে যাবে। ঈদ পর্যন্ত সরাসরি কর্মসূচি না হলেও ২৮ মার্চ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। হ্যাঁ ভোট দেওয়া ৭০ শতাংশ ভোটার অপমানিত হয়েছেন।
বর্তমান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নীরব থাকলেও তারা জানাচ্ছেন, সংবিধান সংশোধনে ডকট্রিন অব নেসেসিটি ও ডকট্রিন অব উইল অব দ্য পিপল বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সুযোগ রয়েছে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব গ্রহণের।