সংগ্রামের স্মৃতি নিয়ে শুরু অগ্নিঝরা মার্চ
আজ অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এ মাসটি এক অনন্য অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মার্চেই তীব্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সূচনা হয় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতির বহু বছরের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায়।
১৯৭১ সালের এ মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করা হয়। এ মাসেই জাতি এবার পালন করবে মহান স্বাধীনতার ৫৫ বছর। এ উপলক্ষে মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে সভা সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নানা আয়োজনে মুখরিত থাকবে গোটা দেশ।
২৫ মার্চের কালোরাতে পাকিস্তানিরা বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধনে গণহত্যা শুরু করে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্বিচারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের বঞ্চনার শিকার হয় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা।
এ প্রেক্ষাপটেই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ -এর শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল জাতিসত্তার স্বরূপ অন্বেষার এক একটি মাইলফলক। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যে স্বাধিকার অর্জনের আন্দোলনের পথে এগোচ্ছিল তা স্পষ্ট হয় এই মার্চেই।