ঘরে বসেই সহজে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন যেভাবে

মাসের শেষের দিকে, অফিস ও আদালত বন্ধ থাকায় অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে—কীভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দিবেন? এখন ঘরে বসেই অনলাইনে সহজে রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে প্রক্রিয়াটি জানা জরুরি, কারণ এনবিআরের সময়সীমা সাময়িকভাবে বাড়লেও ফাইনাল ডেডলাইন শীঘ্রই শেষ হতে পারে।
যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সময়সীমা আরও এক মাস বাড়তে পারে।
তবে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি। বর্তমানে দেশে প্রায় সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। যাঁদের করযোগ্য আয় আছে, তাদের সবার জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। এনবিআরের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৩৯ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
অনলাইনে রিটার্ন দেবেন যেভাবে
সব করদাতাকেই অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। এজন্য প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে একটি নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর। দেশের বাইরে অবস্থানকারীরা ই–মেইলের মাধ্যমে ওটিপি পাবেন। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে আয়কর ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে বছরের মোট আয় ও ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। করমুক্ত আয়ের সীমা বাদ দিয়ে কর নির্ধারণ করতে হবে। বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বা অন্যান্য করছাড় থাকলে সেগুলোও যুক্ত করতে হবে।
আয়–ব্যয়ের পাশাপাশি সম্পদের বিবরণীও দিতে হয়। ৫০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ থাকলে সম্পদের হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে বাড়ি বা গাড়ি থাকলেও সম্পদের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। রিটার্ন জমার সময়ই অনলাইনে কর পরিশোধ করা যায়। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর দেওয়া সম্ভব। ফলে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।
যেসব কাগজপত্র লাগবে: রিটার্ন পূরণের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র প্রয়োজন হবে। যেমন—
বেতন আয়ের সনদ
১) সিকিউরিটিজে সুদ আয়ের সনদ
২) ভাড়ার চুক্তিপত্র ও পৌর করের রসিদ
৩) বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ
৪) সম্পদ ক্রয়–বিক্রয়ের চুক্তিপত্র ও রসিদ
৫) শেয়ারের লভ্যাংশের ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট
৬) উৎসে কর কর্তনের সনদ
কর রেয়াত পেতে চাইলে যেসব লাগবে
১) জীবনবিমার প্রিমিয়াম রসিদ
২) ভবিষ্য তহবিলের চাঁদার সনদ
৩) সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগের প্রমাণ
৪) ডিপিএসের কিস্তির সনদ
৫) কল্যাণ তহবিল বা গোষ্ঠী বিমার চাঁদার সনদ
৬) জাকাত তহবিলে অনুদানের প্রমাণ
সচেতন নাগরিক হিসেবে সময় থাকতেই আয়কর দেয়া উচিত। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিন। শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে আগে থেকেই যেসব লাগবে সেগুলো সংগ্রহ করুন।