সংসদে ত্রয়োদশ অধিবেশনে অধিকাংশ অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশ বাতিলের পথে

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই আইনে রূপান্তর হচ্ছে না। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ওই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি বাদে বাকিগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তুলবে না বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে আগামী ১২ মার্চ। সংবিধান অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে। তা না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধিকাংশ অধ্যাদেশ এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে। যেগুলো আইনে পরিণত হবে, সেগুলোর যাচাই-বাছাই চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৫৫৯ দিন ধরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনকালে তড়িঘড়ি করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে দু-একজন উপদেষ্টার স্বার্থ হাসিলের জন্য অধ্যাদেশ জারির অভিযোগও রয়েছে।
সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার জানিয়েছেন, অধিকাংশ অধ্যাদেশ সংসদ গ্রহণ করবে না। কারণ, বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অধ্যাদেশ অপ্রয়োজনীয়ভাবে জারি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার কিছু অধ্যাদেশ বেছে নিয়ে যাচাই-বাছাই করে আইনে পরিণত করবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের কোনগুলো আইনে পরিণত করা প্রয়োজন তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। আইনে রূপান্তরিত অধ্যাদেশগুলো হুবহু করা হবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি তড়িঘড়ি করে জারি করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
এর আগে ২০০৭-২০০৯ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১২২টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। নবম সংসদে অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করে পর্যালোচনা শেষে ৫৪টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোন অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হবে এবং কোনগুলো উপেক্ষা করা হবে তা বাছাই করে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। আইনে রূপান্তরিত অধ্যাদেশই কার্যকর হবে, বাকিগুলো বাতিল থাকবে।