মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯৯৪ রোগী ভর্তি, মৃত্যু আরও ৩ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম রাজধানীতে ট্রাফিক আইন ভাঙায় ২১৪৪ মামলা, ডাম্পিং ৫০৬ গাড়ি ভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়: পরিবেশমন্ত্রী পদাতিক ইউনিটগুলোকে দেশসেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান সেনাপ্রধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথেই বিএনপি, আস্থা রাখার আহ্বান আইনমন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, উপবৃত্তি পুনরায় চালুর ভাবনা সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্পে ব্রিটিশ অর্থছাঁটাই, দুই বছর আগেই বন্ধ হচ্ছে কার্যক্রম
  • মশার উপদ্রব বেড়ে নগরজীবন অতিষ্ঠ

    মশার উপদ্রব বেড়ে নগরজীবন অতিষ্ঠ
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    হঠাৎ করেই রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব তীব্র আকার ধারণ করেছে। জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা বেড়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, এই মশার প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির।

    নগরবাসী মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সাধারণ কয়েল বা অ্যারোসল ব্যবহারেও তারা আর স্বস্তি পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর কাওরানবাজার এলাকার অনেককে দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে দেখা যাচ্ছে।

    গবেষকরা জানিয়েছেন, কিউলেক্স প্রজাতির মশা জলজ পরিবেশে বেশি জন্মায়। আবহাওয়ার পরিবর্তন, জমে থাকা জল ও শহরের অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের কারণে মশার সংখ্যা বেড়ে গেছে। তারা নাগরিকদের সতর্ক করেছেন, সম্ভাব্য রোগ প্রতিরোধে মশারি ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

    নগরবাসীও নিজেদের বাসা ও আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার রেখে মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।

    বাসাবাড়িতেও একই চিত্র। মোহাম্মদপুর এলাকার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন দুই মাস আগে। এখনো শারীরিক ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তিনি চ্যানেল 24-কে জানান, “অ্যারোসল দিলে সাময়িক সময়ের জন্য মশা দূরে থাকে, কিন্তু ১০ মিনিট পর আবার আগের মতো হয়ে যায়।”

    মো. শাহজাহানের স্ত্রী জানান, “মশার এত উৎপাত যে দিনের বেলাতেও মশারি টানিয়ে রাখতে হয়। আমার স্বামী তো ২৪ ঘণ্টাই মশারির ভেতরে থাকেন।”

    মোহাম্মদপুরের নবোদয়, মোহাম্মদীয়া ও কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকার আশপাশের খালগুলো যেন মশার উর্বর প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রামচন্দ্রপুর খালে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে প্রায় বন্ধ পানির প্রবাহ। ফলে রাতের পাশাপাশি দিনেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা মাঝে মাঝে নৌকা করে ওষুধ ছিটিয়ে যান, কিন্তু এতে মশা কমার বদলে উল্টো বেড়ে যায়। নামাজ আদায়েও সমস্যা হয়। পাশাপাশি কয়েল ও অ্যারোসল ব্যবহারে শিশুদের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    শুধু মোহাম্মদপুর নয়, ধানমন্ডি, উত্তরা, মিরপুর, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। একই অবস্থা কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া ও শ্যামপুর এলাকাতেও।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়–এর গবেষক কবিরুল বাশার জানান, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার ঘনত্ব ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তিনি বলেন, “পার ম্যান পার আওয়ার মশার বাইটিং ডেনসিটি প্রায় ৮০০-এর কাছাকাছি, যার ৯০ শতাংশেরও বেশি কিউলেক্স প্রজাতির।”

    এদিকে সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসে মশার ঘনত্ব প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল, নর্দমা ও জলাশয় পরিষ্কারের পাশাপাশি লার্ভা নিধনে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, “কিউলেক্স মশার হটস্পটগুলো শনাক্ত করে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে কয়েকটি খাল পরিষ্কার করা হয়েছে।”

    তবে বাস্তবতা হলো, মাঝেমধ্যে পরিষ্কার অভিযান চললেও নিয়মিত নজরদারির অভাবে খালগুলো আবারও আবর্জনায় ভরে যায় এবং মশার বংশবিস্তার অব্যাহত থাকে। তাই স্থায়ী সমাধানে খাল-নর্দমায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।

    মাঝেমধ্যে পরিষ্কার অভিযান চললেও, নিয়মিত নজরদারির অভাবে খালগুলো আবারও ভরাট হয় আর্বজনায়, হয় মশার বংশবিস্তার। তাই স্থায়ী সমাধানে খাল-নর্দমায় পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি ভুক্তভোগী নগরবাসীর। 


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন