কারওয়ান বাজারে ভেজাল ও মূল্যবৃদ্ধি রোধে র্যাবের অভিযান

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন, মূল্যবৃদ্ধি, এবং অন্যান্য অভিযোগের ভিত্তিতে নয়টি মামলায় মোট ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায়। র্যাবের কর্মকর্তা জানান, বাজারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা করা হবে।
অভিযান চলাকালীন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। র্যাবের বিশেষ অভিযান নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে র্যাব একটি সতর্কতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযান শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের জানান, এটি কারওয়ান বাজারে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে র্যাব-২-এর আভিজন দল এবং মোবাইল কোর্টের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্যে ভেজাল রোধ করা। একই সঙ্গে বিক্রেতাদের সচেতন করা, যাতে তারা ভোক্তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করে বিভ্রান্তি বা ভোগান্তির সৃষ্টি না করেন।”
বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে অভিযানে সতর্কতামূলকভাবে নয়টি মামলায় মোট ২৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট জানান, “এটি মূলত সচেতনতামূলক অভিযান, তাই জরিমানার পরিমাণ কম রাখা হয়েছে। পুরো রমজান মাসজুড়ে এই তদারকি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে পুনরায় এমন অপরাধ ধরা পড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জরিমানার কম হওয়ার বিষয়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, “আমরা এই অভিযান তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালনা করেছি – দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, ভেজাল দ্রব্যের উপস্থিতি রোধ করা এবং বিক্রেতাদের সচেতন করা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে আমরা সচেতনতামূলক এই অভিযান সম্পন্ন করেছি।”
অভিযান চলাকালীন র্যাব এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও মনিটরিং চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।