নবনির্বাচিত এমপি মিলনের সংসদে প্রবেশের অনন্য দৃশ্য

জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা করলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মিলন। সাধারণ প্রটোকল বা ধীরস্থির হাঁটাচলার চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে একপ্রকার ‘দৌড়ে এবং লাফ দিয়ে’ দ্রুতগতিতে সংসদ ভবনে প্রবেশ করে উপস্থিত সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী প্রবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
গতকাল সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে যখন অন্যান্য সংসদ সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে এবং গাম্ভীর্যের সাথে প্রবেশ করছিলেন, ঠিক তখনই দেখা যায় এমপি মিলনকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি গাড়ি থেকে নেমেই কোনো প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে দ্রুতবেগে সামনের দিকে এগিয়ে যান এবং সংসদ ভবনের মূল প্রবেশপথের সিঁড়িতে একটি চটপটে লাফ দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। উপস্থিত নিরাপত্তা রক্ষী এবং অন্যান্য কর্মকর্তারাও কিছুক্ষণের জন্য হকচকিয়ে যান।
সংসদ ভবনের ভেতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমপি মিলন হাস্যোজ্জ্বল মুখে জানান, এটি কোনো লোকদেখানো স্ট্যান্ট নয়, বরং এটি তার কাজের গতির প্রতীক। তিনি বলেন, “জনগণ আমাকে পাঠিয়েছে তাদের অধিকারের কথা দ্রুত পৌঁছানোর জন্য। আমি সংসদে এসেছি অলসভাবে বসে থাকার জন্য নয়। আমার এই দ্রুতগতি আসলে আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের গতিকেই নির্দেশ করে। আমি সময় নষ্ট করতে চাই না।”
এমপি মিলনের এই ভিন্নধর্মী প্রবেশের পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘অপরিণত আচরণ’ বলে সমালোচনা করলেও, তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ একে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রথাগত শ্লথ গতির রাজনীতির বদলে এমন উদ্যমী ও প্রাণবন্ত জন প্রতিনিধিই বর্তমান সময়ের দাবি।
সংসদীয় রীতিনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো গতির নিয়ম নেই, তবে সংসদীয় গাম্ভীর্য বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। তবে অতীতেও অনেক জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন প্রতীকী আচরণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এমপি মিলনের এই ‘লাফ দিয়ে প্রবেশ’ শেষ পর্যন্ত প্রতীকী উৎসাহ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, সংসদের ভেতরে জনস্বার্থ রক্ষায় এমপি মিলন তার এই প্রাথমিক গতির প্রতিফলন কতটা ধরে রাখতে পারেন।