সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠানের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন

দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গভবনের বাইরে, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও পারিপার্শ্বিক এলাকা নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। মাঠ, কসমস ও নানান জাতের ফুলে সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। অতিথি আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, এবং ঘাস কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংসদের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে অস্থায়ী দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন।
মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমে সরকারি দলের শপথ নেবেন। এরপর বিরোধী জোট ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হবে। একই দিন বিকেলে দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবেন।
শপথকক্ষ ও সংসদ ভবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ সংস্কার ও নতুন করে সাজানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ফলে কিছু আসবাবপত্র ও চেয়ার হারিয়ে গিয়েছিল, যা পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। ভবনের ওয়াকওয়ে, ছাদ ও অন্যান্য স্থাপনা পরিষ্কার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস অফিসের নির্দেশে নতুন সিকিউরিটি সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও বৈদ্যুতিক ইনস্টলেশন করা হয়েছে। মন্ত্রী হোস্টেল ব্লকে নতুন সংসদ টেলিভিশন স্টুডিও নির্মাণ করা হয়েছে। পুলিশের পুরনো ব্যারাক পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া অধিবেশন কক্ষ, কমিটি কক্ষ ও শপথ কক্ষের রং, আসবাবপত্র ও চেয়ার নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। বাকি কাজগুলো শেষ করতে দিনরাত পরিশ্রম করা হচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল প্রকাশ হয়েছে। সরকারি দল বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিরোধী দলের আসনে বসবে জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে। বাকি আসনে জয়ী হয়েছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।