মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯৯৪ রোগী ভর্তি, মৃত্যু আরও ৩ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম রাজধানীতে ট্রাফিক আইন ভাঙায় ২১৪৪ মামলা, ডাম্পিং ৫০৬ গাড়ি ভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়: পরিবেশমন্ত্রী পদাতিক ইউনিটগুলোকে দেশসেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান সেনাপ্রধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথেই বিএনপি, আস্থা রাখার আহ্বান আইনমন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, উপবৃত্তি পুনরায় চালুর ভাবনা সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্পে ব্রিটিশ অর্থছাঁটাই, দুই বছর আগেই বন্ধ হচ্ছে কার্যক্রম
  • ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তায় পুলিশ প্রস্তুত, ৮,৭৭০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

    ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তায় পুলিশ প্রস্তুত, ৮,৭৭০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সারাদেশে মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮,৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬,০০০টি কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

    মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।


    আইজিপি বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এবং মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি, দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় প্রটোকল অনুসরণ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে যাতে ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। আইজিপি বাহারুল আলম ভোটারদের কাছে অনুরোধ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নিরাপদভাবে ভোট দিতে সবাই তাদের দায়িত্ব পালন করুন।

    তিনি জানান, এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

    বাহারুল আলম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

    আইজিপি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।


    আইজিপি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন।

    অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনকালীন বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে এক হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেকোনো অবৈধ অস্ত্রই বড় হুমকি। এ কারণে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন।

    আইজিপি বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবে বাস্তবতায় কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্ত চলছে।

    সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন শুটারের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই তালিকাটি কার সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে এমন আশঙ্কা নেই।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।

    তিনি আরও জানান, ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

    ৫ আগস্টে জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।

    নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে আইজিপি বলেন, আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই যাতে এই নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হয়। কতটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবে দেশবাসী।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন