সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর অভিযান, উখিয়ায় ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক

সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অভিযানে কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করা অন্তত ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক করা হয়েছে।
যৌথ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবিবার ভোরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ আশেপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বজায় রেখে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি ও আটক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অনিয়মিতভাবে বসবাস করা ও নির্দিষ্ট নিয়মভঙ্গের কারণে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যৌথ বাহিনী বলেছে, এই ধরনের অভিযান নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে এবং মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অভিযান অব্যাহত থাকায় আটকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের অপব্যবহার করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্পে জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু তারপরও তারা নিয়ম ভেঙ্গে বাঙালিদের জমি দখল করে অবস্থান করছে। যা স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।”
বর্তমানে আটককৃতদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত করা হচ্ছে। পরে তাদেরকে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে এবং ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।
“তাদেরকে আমরা এখনই ক্যাম্পে পাঠাবো না। আগে সবাইকে আটক করা হবে। তারপর অনুসন্ধান করা হবে যে তারা কেন ক্যাম্পে নিজেদের নির্ধারিত জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার পর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদেরকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো ব্যবস্থা করা হবে।”
এদিকে ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারিতে বার্মা কলোনিসহ আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠায় যৌথ বাহিনী।