মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯৯৪ রোগী ভর্তি, মৃত্যু আরও ৩ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম রাজধানীতে ট্রাফিক আইন ভাঙায় ২১৪৪ মামলা, ডাম্পিং ৫০৬ গাড়ি ভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়: পরিবেশমন্ত্রী পদাতিক ইউনিটগুলোকে দেশসেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান সেনাপ্রধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথেই বিএনপি, আস্থা রাখার আহ্বান আইনমন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, উপবৃত্তি পুনরায় চালুর ভাবনা সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্পে ব্রিটিশ অর্থছাঁটাই, দুই বছর আগেই বন্ধ হচ্ছে কার্যক্রম
  • ৪ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ধর্মঘট শুরু

    ৪ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ধর্মঘট শুরু
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে আবারও অচল হতে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।

    চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আগামীকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই ধর্মঘটের কারণে বন্দর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সংগঠনগুলো দাবি করছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের চলমান নীতিমালা এবং বিদেশি অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে বন্দরজাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই তারা বন্দর পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সকল দাবির বাস্তবায়ন দাবি করছেন।

    অভিযুক্ত ধর্মঘটের ফলে দেশের মুখ্য বন্দর এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

    আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। এর ফলে কর্মবিরতি স্থগিতের মাত্র দুইদিন পরই আবারও চরম অচলাবস্থার শঙ্কায় পড়েছে বন্দর।

    এর আগে শুক্রবার রাতে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারাও একই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে অবিলম্বে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, চার্জশিট) প্রত্যাহার করতে হবে।

    আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা বা আইনি হয়রানি করা যাবে না।
    সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। উপদেষ্টার আশ্বাসে রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন।

    তবে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান আন্দোলনকারী ১৫ জন নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য দুদককে চিঠি দিয়েছেন।

    শ্রমিক নেতারা এই পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক’ এবং ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, বন্দর চেয়ারম্যান পতিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে বন্দরকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।
    রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানীকৃত খাদ্যশস্য, শিল্প কারখানার কাঁচামাল এবং রপ্তানিজাত তৈরি পোশাকবাহী কনটেইনার খালাস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কয়েক দিন টানা ধর্মঘট চললে জেটিতে জাহাজের জট এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। প্রতিদিন শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার।

    শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ গুনতে হবে। রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
    চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এনসিটি ইজারা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং শ্রমিকদের ওপর থেকে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা না হবে, ততক্ষণ বন্দরে কোনো কাজ চলবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান, এস কে খোদা তোতন, মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন