গুলিবিদ্ধ আফনানের মৃত্যু, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত টেকনাফের শিশুটি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে। রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুটির নাম হুজাইফা সুলতানা আফনান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামা মাহফুজুর রহমান। তিনি জানান, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হুজাইফাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় এমন ঘটনায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি সকালে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় শিশুটি। তখন তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে।
বিশেষ করে মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলায় সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপারের গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে।