মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

‘হ্যাঁ’ ভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়বে—এ দাবি ভুয়া: প্রেস উইং

‘হ্যাঁ’ ভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়বে—এ দাবি ভুয়া: প্রেস উইং
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হবে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সরকার একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে ঘিরে ফেসবুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে। এসব দাবির পক্ষে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি পুরোনো ফটোকার্ড ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রেস উইং জানায়, ওই ফটোকার্ডে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ-এর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি বলেছেন, গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো বিলম্ব হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ তার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করবে এবং সরকার গঠন হবে। তবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের জন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। বরং এই দায়িত্ব পালন করবেন পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।

এ ছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেস উইং জানায়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে আগামী সংসদ একটি দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংস্কার পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শেষ করবে এবং এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুরো সময়জুড়ে সংসদ সদস্যরা একদিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের কাজ করবেন। তবে প্রচলিত কোনো আইন বা আদেশেই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই। সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং সংসদ স্বাভাবিক কাঠামোয় কার্যক্রম চালাবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন