ফরিদগঞ্জে রাতের আঁধারে ফসলি জমির টপসয়েল লুটের মহোৎসব

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমির উর্বর মাটি বা ‘টপসয়েল’ চুরির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। উপজেলার ৪নং পশ্চিম সুবিদপুর ইউনিয়নের সাহের বাজার সংলগ্ন গাজী বাড়ি ও মিজি বাড়ি এলাকায় রাতের আঁধারে বেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। দিনের বেলা কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে তারা বেছে নিয়েছে রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়কে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩নং ওয়ার্ডের সেকান্তর মোল্লা ও মো. জাহাঙ্গীরের প্রায় এক একর কৃষি জমি থেকে মাটি লুটের এই কর্মযজ্ঞ চলছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে মোহাম্মদ কানা হানিফ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও ইকবাল হোসেনসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। তারা কৃষকদের নানা প্রলোভন বা ভয়ভীতি দেখিয়ে মূল্যবান এই মাটি পার্শ্ববর্তী ইটভাটাগুলোতে চড়া দামে বিক্রি করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলায় কোনো কার্যক্রম না থাকলেও রাত নামলেই শুরু হয় ট্রাক্টরের দাপাদাপি। স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ট্রাক্টরের বিকট শব্দে রাতে ঘুমানো দায় হয়ে পড়েছে। প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এই চক্রটি কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি ট্রাক্টর মাটি ৪০০-৫০০ টাকায় কিনে ইটভাটায় ১৮০০-২০০০ টাকায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের মুনাফা।
অবাধে মাটি কাটার ফলে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতাধীন এই কৃষি জমিগুলো ক্রমশ নিচু হয়ে যাচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং জমির স্থায়ী উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই প্রভাবশালী চক্রটি রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই 'মাটিখেকো' সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।