রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পক্ষপাত দেখিয়ে ইসি ঘেরাও ছাত্রদলের

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রবিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ঘেরাও করেছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইসি ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন।
ছাত্রদলের দাবি, ইসি পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং কিছু সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট। তাই তিনটি মূল দাবিতে তারা ইসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি নিয়েছে।
ছাত্রদলের নেতারা আরও জানিয়েছেন, ভোট ও নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আজ সকাল ১০টা থেকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শেষ দিনের আপিল শুনানি চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আপিল শুনানি শুরু হয়।
গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৪২ জন (আপিলে বাদ চারজন)। এরপর বাছাইয়ে বাদ পড়া ৭২৩ জনের মধ্যে ৫-৯ জানুয়ারি ৬৪৫ জন আপিল করেছেন। ১০-১৭ জানুয়ারি টানা আট দিন আপিলে প্রায় ৪০০ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
আজ সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে ৬১১ থেকে ৬৪৫ ও অপেক্ষমাণ আপিলের শুনানি হবে।
ছাত্রদলের ৩ ইস্যু হলো:
১. পোস্টাল ব্যালট-সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
দুপুর ১২টার দিকে শেরে বাংলানগর থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেছেন, আজ রোববার সকাল থেকে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এখন বক্তব্য দিচ্ছেন।