মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

‘হ্যাঁ’ ভোটের আগাম প্রচারণা: নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন

‘হ্যাঁ’ ভোটের আগাম প্রচারণা: নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বহুল প্রতীক্ষিত গণভোট। তবে ভোটগ্রহণের মাসখানেক আগেই গণভোটের প্রচারণায় সরকারের সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

​মাঠজুড়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার ​সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর ব্যাংকগুলোর প্রবেশমুখে শোভা পাচ্ছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যানার। কেবল ব্যাংক নয়, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদেরও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আইবিএননিউজের তথ্যানুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এসব প্রচারণার মূল তদারকি করছে। প্রচারণায় কৌশলে তুলে ধরা হচ্ছে— ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে মিলবে সমৃদ্ধি, আর ‘না’ ভোট মানেই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়া।

​নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন: আইনাঙ্গন ও বিশ্লেষকদের উদ্বেগ গণভোটে সরকারের এমন একপাক্ষিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা কঠোর সমালোচনা করেছেন।

সিনিয়র আইনজীবী জেডে আই খান পান্না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্য বলেন, "সরকারের কাজ নিরপেক্ষ থাকা। কিন্তু তারা একটি পক্ষ নিয়ে সরাসরি মাঠে নেমেছে। এটি কেবল বেআইনিই নয়, বরং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। জনগণের টাকায় ‘না’ সমর্থকদের বিরুদ্ধেই প্রচারণা চালানো হচ্ছে যা চরম অনৈতিক।"

​একই সুরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, "যেসব শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তারাই ভোট গ্রহণ করবেন। এতে ভোটের নিরপেক্ষতা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এই নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পথ সরকার নিজেই তৈরি করছে।" ভিন্ন সুরও আছে।

​তবে এই প্রচারণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নির্বাচন বিশ্লেষক ও ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান। তিনি মনে করেন, "এই সংস্কার কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের স্বার্থে। অন্তর্বর্তী সরকার অনেক পরিশ্রম করে এই সংস্কার এনেছে, তাই এটি জনগণকে জানানো তাদের কর্তব্য। এখানে কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ নেই।"

অন্যদিকে, সাবেক ইসি সচিব জেসমিন টুলী মনে করেন, সরকারের উচিত সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোট না চেয়ে কেবল সংস্কারের সুফলগুলো জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করা। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোটারের হাতেই থাকা উচিত।

​জনমনে প্রশ্ন

তফসিল অনুযায়ী প্রচার শুরু হওয়ার কথা আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু তার আগেই সরকারি যন্ত্র ব্যবহার করে এই আগাম প্রচারণা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগের নীতিকে ক্ষুণ্ণ করছে কি না—সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের ভাগ্য নির্ধারণী এই গণভোট শেষ পর্যন্ত কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন