ছানা ও দুধের স্বাদে ভরা ছানার পায়েস

ছানার পায়েস হলো বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন, যা বিশেষ করে শীতকাল ও উৎসবমুখর সময়ে প্রিয়। এটি মূলত দুধ, ছানা (পনির), চিনি ও চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি করা হয়। গোলমরিচ, এলাচ, কিসমিস বা কাঠবাদাম দিয়ে এর স্বাদ আরও বাড়ানো যায়।
উপকরণ:
- ছানা: ২০০ গ্রাম (ঘরে তৈরি টাটকা ছানা হলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়)।
- দুধ: ১ লিটার (ফুল ক্রিম দুধ)।
- চিনি: আধা কাপ (স্বাদমতো)।
- এলাচ: ৩-৪টি।
- কনডেন্সড মিল্ক: ২-৩ টেবিল চামচ (পায়েস ঘন ও ক্রিমি করার জন্য)।
- বাদাম কুচি: সাজানোর জন্য (কাঠবাদাম, পেস্তা বা কাজু)।
- জাফরান: এক চিমটি (ঐচ্ছিক, সুন্দর রঙের জন্য)।
প্রস্তুত প্রণালী:
১. প্রথমে ছানা থেকে পানি সম্পূর্ণ ঝরিয়ে নিন। এবার হাতের তালু দিয়ে ছানা খুব হালকা করে একটু মেখে নিন (বেশি মাখবেন না, যেন দানাদার ভাবটা বজায় থাকে)। ছোট ছোট বল বা ঝুরি ঝুরি করে রাখতে পারেন।
২. একটি ভারি তলার হাঁড়িতে ১ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে প্রায় অর্ধেক (৫০০ মিলি) করে নিন। এতে এলাচ দিয়ে দিন।
৩. দুধে চিনি এবং কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। চিনি গলে গেলে মিশ্রণটি ঘন হয়ে আসবে।
৪. এবার দুধে তৈরি করে রাখা ছানা দিয়ে দিন। চুলার আঁচ কমিয়ে দিন এবং হালকা হাতে নাড়ুন। ছানা দেওয়ার পর খুব বেশি সময় জ্বাল দেওয়ার প্রয়োজন নেই, ৫-৭ মিনিট রান্না করলেই হবে।
৫. পায়েস ঘন হয়ে এলে ওপর থেকে জাফরান ভেজানো দুধ (থাকলে) এবং বাদাম কুচি ছড়িয়ে দিন।
৬. চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এই পায়েসটি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো লাগে।
কিছু বিশেষ টিপস:
- দোকানের শক্ত ছানার চেয়ে লেবুর রস বা সিরকা দিয়ে ঘরে তৈরি করা নরম ছানা পায়েসের জন্য সেরা।
- ছানা দেওয়ার পর খুব বেশি জোরে নাড়বেন না, এতে ছানা ভেঙে দুধের সাথে মিশে যেতে পারে।
- গুড় দিয়ে তৈরি করতে চাইলে দুধ চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করে তারপর গুড় মেশাবেন, নাহলে দুধ ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ছানার পায়েস গরম বা ঠান্ডা—উভয়ভাবে খাওয়া যায়। এটি পুষ্টিকর, হজমে সহজ এবং উৎসবমুখর মিষ্টি হিসেবে সব সময় সকলের প্রিয়।