নীলফামারীতে আওয়ামী লীগের ৯ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

নীলফামারীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানের পঞ্চম দিনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৯ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসমত আলী হাসু (৩৬), ডোমার উপজেলার ভোগড়াবুড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক (৩৫), জলঢাকা উপজেলার স-মিল শ্রমিক ঐক্য ও শ্রমিক ঐক্য লীগ পরিষদের সভাপতি জামাদুল ইসলাম ভেব্বল (৪৭), একই উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা আলী (৪০), কিশোরীগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জগদীশ চন্দ্র বর্মন (৫৭), একই উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান (৪০), নীলফামারী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য আবু সাঈদ এবং সৈয়দপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য আনোয়ার হোসেন (৩৩)।
এ ছাড়া সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মেজবাউল আরেফিন ইসলামকে (৩৮) পূর্বে দায়ের করা একটি নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় থাকলেও নতুন আরেকটি নাশকতা মামলায় আদালতের নির্দেশে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে।
নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, নাশকতা ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশের সূত্রে জানায়, চলমান বিশেষ অভিযানে গত পাঁচ দিনে নীলফামারী জেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মোট ৩০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ৪ জন, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ৭ জন, শুক্রবার ৫ জন এবং শনিবার ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নাশকতামূলক তৎপরতা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।