শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম স্পারসো ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড, চেয়ারম্যান তারেক রহমান রপ্তানি নীতিতে পরিবর্তন, ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স খাতে বাড়ছে সুযোগ ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক লিটন দাস সিলেটে এনসিপির কর্মসূচির পথে হামলার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সারজিসের গাড়ি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ভুয়া নিয়োগে কঠিন ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী ‘দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের’, গোলাপগঞ্জে যাওয়ার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও ঢাকায় পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর
  • প্রথম দৃষ্টিতেই প্রেম? ৯০ সেকেন্ডে হয় আকর্ষণ

    প্রথম দৃষ্টিতেই প্রেম? ৯০ সেকেন্ডে হয় আকর্ষণ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভালোবাসা নিয়ে নানা মত আছে—কেউ এটিকে একটি অনুভূতি হিসেবে দেখেন, কেউ আবার ‘ম্যাজিক্যাল ইমোশন’ হিসেবে। আবার অনেকে মনে করেন, এটি কেবল মস্তিষ্কের হরমোনের খেলা। তবে ভালোবাসার প্রকৃত সংজ্ঞা কী? কেন মানুষ ভালোবাসে, এবং এর উৎপত্তিস্থল কোথায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে অনেকেই গবেষণা করছেন।

    দার্শনিকদের মতে, ভালোবাসা মানুষের জীবনে এক বিশেষ শক্তি। প্লেটো তাঁর সিম্পোজিয়ামে বলেছেন, ভালোবাসা মানুষকে পূর্ণতা দেয়। এটি প্রেমের সেই শুদ্ধতম পর্যায়, যেখানে কামনা বা বাসনার কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে, বার্ট্রান্ড রাসেল মনে করতেন, প্রেমে যৌন আকর্ষণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ভালোবাসা কেবল মনস্তাত্ত্বিক নয়, এর পেছনে রয়েছে জটিল রসায়ন ও হরমোনের খেলা।

    গবেষণা অনুযায়ী, কারো প্রতি আকর্ষণ অনুভব করার সময় মস্তিষ্কে একধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ হয়, যা সুখানুভূতি সৃষ্টি করে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্ক কাউকে প্রেমে পড়তে মাত্র ৯০ সেকেন্ড থেকে ৪ মিনিট সময় নেয়। আকর্ষণ মূলত বাহ্যিক রূপ, কথা বলার ভঙ্গি ও অভিব্যক্তির উপর নির্ভর করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৫% মানুষ অঙ্গভঙ্গি দেখে প্রেমে পড়ে, ৩৮% কণ্ঠস্বর ও কথার ধরণে আকৃষ্ট হয়, আর মাত্র ৭% মূল বক্তব্য শুনে প্রেমে পড়ে।

    ভালোবাসার তিনটি স্তর

    যুক্তরাষ্ট্রের রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলেন ফিসারের মতে, প্রেম তিন স্তরে বিভক্ত—ভালোবাসার ইচ্ছে, আকর্ষণ এবং সংযুক্তি। প্রতিটি স্তরেই বিভিন্ন হরমোন ও নিউরোট্রান্সমিটার ভূমিকা রাখে।

    ১. ভালোবাসার ইচ্ছে:
    প্রেমের প্রথম স্তর। কাউকে পছন্দ হলে ছেলেদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়।

    ২. আকর্ষণ:
    দীর্ঘকাল পছন্দের ফলে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এই স্তরে মূলত অ্যাড্রেনালিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিন নিঃসৃত হয়।

    • অ্যাড্রেনালিন: প্রিয় মানুষকে দেখলে নার্ভাস হওয়া, ঘাম ঝরা বা হৃদপিণ্ড দ্রুত ধাক্কা দেওয়া।

    • ডোপামিন: সদ্য প্রেমে পড়া মানুষকে উদ্দীপনা ও প্রিয় ব্যক্তিকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে।

    • সেরোটোনিন: প্রেমে পড়ার সময়ে চিন্তাভাবনা ও আবেগের পরিবর্তন ঘটায়, নতুন যুগলের সম্পর্ককে অন্য সম্পর্কের তুলনায় আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

    ৩. সংযুক্তি:
    দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকার পর দুজনের প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার অনুভূতি। এ সময় অক্সিটোসিন ও ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এই স্তরেই সাধারণত ঘর বাঁধা বা স্থায়ী সম্পর্কের দিকে ধাবিত হয়।

    ভালোবাসা শুধুই মনস্তাত্ত্বিক বা দার্শনিক বিষয় নয়, বরং এটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করা যায়। হরমোন, নিউরোট্রান্সমিটার ও মস্তিষ্কের জটিল রসায়নের সংমিশ্রণই মানুষের ভালোবাসার অনুভূতিকে গঠন করে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ