তারেকের দেশে ফেরায় নেই প্রশাসনিক বাধা নিষেধ : প্রেস সচিব

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ নেই। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শফিকুল আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "তারেক রহমান দেশের একজন নাগরিক। তার বাংলাদেশে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনগত বাধা নেই।"
তিনি আরও জানান, তারেক রহমান আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে দেশে ফিরে আসতে পারেন।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে পলাতক আসামি হিসেবে গণ্য হচ্ছেন। তার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
প্রেস সচিব ফেসবুকে লিখেন, ‘জনাব তারেক রহমানের আজকের বক্তব্য যে এখনই দেশে ফেরার বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তার জন্য অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, এটা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জনাব শফিকুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোন ধরনের বিধি নিষেধ রয়েছে কিনা।’
প্রেস সচিব জানান, ‘এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধি নিষেধ অথবা কোন ধরনের আপত্তি নাই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
এর আগে হাসপাতালের সিসিইউতে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপারসান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংকটময় মুহূর্তে মায়ের পাশে না থাকতে পারার কারণ জানিয়ে তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেসুবকে লিখেছেন, সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।
তারেক রহমান লিখেন, স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।
মায়ের বর্তমান শারীরিক অবস্থা জানিয়ে তিনি লিখেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তার রোগমুক্তির জন্য দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তার রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মত তাদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধুপ্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।