প্রতি জানুয়ারি ঢাকার বাড়িভাড়া আকাশছোঁয়া, ভাড়াটিয়াদের আক্ষেপ

প্রতি বছর জানুয়ারি মাস এলেই যেন নিয়ম করে বেড়ে যায় ঢাকার বাড়ি ভাড়া। বছরের পর বছর ধরে চলা এই অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া বৃদ্ধির সংস্কৃতিতে রাজধানীর কয়েক কোটি ভাড়াটিয়া পরিবার এক অসহনীয় চাপের মধ্যে দিন পার করছে। বাড়িওয়ালাদের খামখেয়ালি এই ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে ভাড়াটিয়াদের মধ্যে।
বাড়তি ভাড়ার বোঝা: জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা
রাজধানীতে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষই ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের আয়ের একটি বড় অংশ, ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত, চলে যায় বাড়ি ভাড়া পরিশোধে। এর ওপর প্রতি বছর বছর ৫% থেকে ১০% ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়িওয়ালারা সাধারণত নতুন বছরের শুরুতে মৌখিক নোটিশে ভাড়া বৃদ্ধির কথা জানিয়ে দেন। ভাড়াটিয়ারা প্রতিবাদ করলেও তাতে কোনো কাজ হয় না। হয় বর্ধিত ভাড়া মেনে নিতে হয়, নয়তো নতুন বাসা খোঁজার ঝামেলা পোহাতে হয়।
আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই
বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, বাড়ি ভাড়া মানসম্মত হতে হবে এবং বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে লিখিত চুক্তি থাকতে হবে। আইনে আরও বলা আছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ না হলে ভাড়া বাড়ানো যাবে না এবং ভাড়া বাড়ানো হলেও তা যৌক্তিক হতে হবে।
তবে বাস্তবে এই আইনের কোনো প্রয়োগ নেই বললেই চলে। ঢাকা শহরে লিখিত চুক্তির প্রচলন খুব কম এবং বাড়িওয়ালারা নিজেরাই ভাড়া নির্ধারণ করেন। ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ জানানোর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় তারা আইনি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মত ও করণীয়
নগর পরিকল্পনাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঢাকার বাড়ি ভাড়া সমস্যা এখন একটি সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। অবিলম্বে এই খাতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বলেছেন, "সরকারকে অবিলম্বে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় ভাড়া নির্ধারণী কমিটি গঠন করা হোক, যাতে বাড়িওয়ালারা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াতে না পারেন।"
ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ রক্ষায় আইনের প্রয়োগ এবং সরকারের দ্রুত পদক্ষেপই পারে রাজধানীর কোটি মানুষের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করতে।