পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের ২৬ বছর ধরে নিয়োগবিধি ঝুলে আছে
.jpg)
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনে রাজস্বখাতভুক্ত পরিবার পরিকল্পনা পরিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ৪,৫০০ জন এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী ২৩,৫০০ জন—মোট প্রায় ২৮ হাজার কর্মী দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নিয়োগবিধিবিহীন অবস্থায় মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন।
পরিবার পরিকল্পনা, মা–শিশু স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম, ইপিআই টিকাদান, কিশোর–কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ—দেশের মৌলিক স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এসব কর্মী পদোন্নতি, গ্রেড উন্নীতকরণ ও বৈধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
কর্মীদের অভিযোগ, পদ রাজস্বখাতভুক্ত হলেও ২৬ বছরেও তাদের নিয়োগবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে তারা বহুবার লিখিত আবেদন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (২০ তারিখ) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের যৌথ উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন—
বছরের পর বছর শ্রম দিয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ালেও তাদের প্রাপ্য অধিকার দেওয়া হচ্ছে না। নিয়োগবিধির অভাবে জীবনভর চাকরি করেও পদোন্নতি বা সুযোগ–সুবিধার মুখ দেখতে পাচ্ছেন না হাজারো কর্মী।
রেনুকা আফরোজ, সহসভাপতি, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ
তিনি বলেন—
“আমরা দেশের একমাত্র বিভাগ যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিই। মাতৃমৃত্যু হ্রাস, শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ, গর্ভবতী মায়ের সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, কিশোর–কিশোরী স্বাস্থ্য—সব দায়িত্বই আমরা নিবিড়ভাবে পালন করি।
করোনা মহামারিতেও আমরা জীবনবাজি রেখে কাজ করেছি।
কিন্তু আজও আমাদের কোনো নিয়োগবিধি নেই—এটি চরম বঞ্চনার নামান্তর। দ্রুত নিয়োগবিধি বাস্তবায়ন করতে হবে, নইলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
মুক্তা পারভীন, সভাপতি, পরিবার কল্যাণ সহকারী কেন্দ্রীয় কমিটি
তিনি বলেন—
“আমরা ২৬ বছর ধরে নিয়োগবিধিহীন জীবনের শিকার। বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই—এটি নিঃসন্দেহে অবিচার।
আমাদের একটাই দাবি—অবিলম্বে প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি বাস্তবায়ন।
এ দাবি দীর্ঘ হলে দেশের ৬৪ জেলার পরিবার কল্যাণ সহকারীরা যৌথভাবে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে।”
মো. সোহেল হোসেন, আহ্বায়ক, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক কেন্দ্রীয় সমিতি
তিনি বলেন—
“ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারি সব স্বাস্থ্যকর্মসূচিতে আমরা নিবিড়ভাবে জড়িত। তবুও আমাদের নিয়োগবিধি নেই—এটি চরম বৈষম্য ছাড়া আর কিছু নয়।
মা–শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ বিতরণ, ডেলিভারি সহায়তা—অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমরা পালন করি।
নিয়োগবিধি আমাদের পরিচয় ও অধিকার—এ বিলম্ব আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি
তিনি বলেন—
“একজন সরকারি কর্মচারীর চাকরিজীবনের সব সুবিধা নির্ধারিত হয় নিয়োগবিধির ভিত্তিতে।
কিন্তু ২৬–৩০ বছর চাকরি করেও যখন পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন, তখন শুনতে হয়—
‘আপনাদের তো নিয়োগবিধি নেই।’
এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।
নিয়োগবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।”
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রায় ২৮ হাজার মাঠকর্মী দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলেও নিয়োগবিধির অভাবে তাদের কর্মজীবন অনিশ্চয়তা, হতাশা ও বৈষম্যের মধ্যে কাটছে।
কর্মীরা বলছেন—
তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।