প্রাথমিক শিক্ষকদের দশম গ্রেড দাবিতে পদযাত্রা ঠেকাতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে ঘোষিত ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’ পালন করতে শাহবাগে অবস্থান নিতে গেলে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষকরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাবির পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পুলিশের আচরণ অযৌক্তিক ও অমানবিক। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয় তারা।
এই ঘটনার পর শাহবাগে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’র ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এরপর তিন দফা দাবিতে তারা শাহবাগের দিকে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে অনেক শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে বহু শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো— সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা প্রদান।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম এবং ১৩তম থেকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে এতে সহকারী শিক্ষকরা বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
অন্যদিকে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেক অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে। তাদের দাবি মানা না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়া ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।