শাহবাগে দশম গ্রেড বেতনসহ দাবিতে শিক্ষক কর্মসূচি, কলম বিসর্জন

প্রাথমিক শিক্ষা খাতের শিক্ষকরা তাদের দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবি পূরণের জন্য কলম বিসর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’, যা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মূল দাবিগুলো সরকার দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতি জোর দিতে চায়।
পরিষদের এক মুখপাত্র জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিকভাবে এই কর্মসূচি পালন করব। এর মাধ্যমে আমাদের দাবি যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।” কলম বিসর্জন কর্মসূচি আগামী দিনে বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষক নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই কর্মসূচি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে এবং শিক্ষাখাতে ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, আমাদের সচিব, উপদেষ্টা তাদের কাছে হয়তো কলম নেই, তাই সহকারী শিক্ষকদের প্রজ্ঞাপনে তারা সই করতে পারছে না। আমরা তাদের উদ্দেশ্যে আজ কলম সমর্পণ করবো, যাতে তারা সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডসহ তিন দফা বাস্তবায়ন করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও রয়েছেন– বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহীন) সভাপতি প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম; বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ আনোয়ার উল্যা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রাথমিক শিক্ষকরা।
তারা জানান, পুলিশের উপ-পরিদর্শক, নার্স, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পান। সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন লড়াই করেও ১১তম গ্রেড পাননি। তাই এখন দশম গ্রেড নির্ধারণসহ তিন দফা দাবি আদায়ে মাঠে নামছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা বলেন, কয়েক দফা আন্দোলনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়। সে অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন না করে পাঠায় নব-গঠিত পে-কমিশনে। কিন্তু দুই মাস পার হলেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকরা পে-কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পে-কমিশন জানিয়ে দেয়, শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তনের কাজ পে-কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়, এটা সার্ভিস কমিশনের কাজ। পে-কমিশনের অপারগতার পর শিক্ষকরা আবারও তাদের দাবি দশম গ্রেডে ফিরে যান এবং তা বাস্তবায়নে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো– সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়া; ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান; শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
গত ১৭ অক্টোবর থেকে শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের একটি অংশ হঠাৎ করে কর্মসূচি স্থগিত করেন।