বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার আলাদা পদ স্থগিত, সরকারের যুক্তি প্রকাশ

সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার আলাদা পদ স্থগিত, সরকারের যুক্তি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক আলাদা শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ না দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সচিব কমিটির মতামত তুলে ধরে সরকার জানিয়েছে, সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো বাস্তব সুফল আনা সম্ভব নয়। বরং এতে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।

তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় বাজেটের ব্যবস্থা হলে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের নতুন বিষয়ের জন্য আলাদা পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় আনা যেতে পারে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে।

এর আগে গত রোববার সরকার ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা’ সংশোধন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের ধারা বাতিল করে। সংশোধিত বিধিমালা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। অগাস্ট মাসে জারি হওয়া ২০২৫ সালের মূল বিধিমালায় এই দুই বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। তবে পরে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সভা–সমাবেশে সংগীত শিক্ষকের বদলে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের দাবি তোলেন এবং তা বাতিল না করলে আন্দোলনের হুমকিও দেন।

আগস্টের বিধিমালায় চার ধরনের শিক্ষক–পদ ছিল—প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক (সংগীত) এবং সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা)। কিন্তু নতুন সংশোধনে কেবল প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক এই দুটি পদ রাখা হয়েছে। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।

সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সারাদেশের আড়াই হাজার ক্লাস্টারে একই সংখ্যক সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের প্রথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সচিব কমিটি মনে করে, প্রকল্পটির পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। দেশে মোট ৬৫ হাজার ৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় ক্লাস্টারভিত্তিক নিয়োগ দিলে একই শিক্ষককে ২০টিরও বেশি স্কুলে দায়িত্ব পালন করতে হতো যা বাস্তবভাবে সম্ভব নয়।

কমিটি আরও মনে করে, এত অল্পসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিলে বৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো উল্লেখযোগ্য উপকার মিলবে না এবং স্কুলগুলোর মধ্যে দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি হবে। ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান হলে সব বিদ্যালয়ে সমানভাবে নতুন বিষয়ের শিক্ষক–পদ সৃজন ও নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন